৭০ দেশের সঙ্গে লড়াইয়ে হাফেজ আনাসের বিশ্বজয়!

আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশকে গৌরবময় করে তুলেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। বিশ্বের ৭০টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের পেছনে ফেলে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায়, যা অনুষ্ঠিত হয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রোতে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক ও আনাসের ওস্তাদ হাফেজ নেছার আহমদ আন নাছিরী।

চার দিনব্যাপী আয়োজনে দারুণ পারফরম্যান্স

তিনি জানান, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) কায়রোতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ হাফেজরা। কোরআন তেলাওয়াত, মুখস্থ পাঠ, শুদ্ধ উচ্চারণ ও ক্বিরাতের নানা দিক বিবেচনায় বিচারকরা মূল্যায়ন করেন প্রতিযোগীদের।

সবগুলো বিভাগেই অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে শীর্ষ স্থান দখল করেন বাংলাদেশের কৃতি হাফেজ আনাস।

জাতীয় পর্যায় থেকে বিশ্বমঞ্চে উত্তরণ

মিসরে অংশগ্রহণের আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে আনাস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত ওই বাছাই পর্বে তার তেলাওয়াত ও হিফজ বিচারকদের মুগ্ধ করে।

বাড়ছে উৎসবের আমেজ—প্রত্যাবর্তনে সংবর্ধনা

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনবারের বিশ্বজয়ী এই প্রতিভাবান হাফেজ দেশে ফিরবেন শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায়। এ উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন তার শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এর আগেও দুটি বিশ্বজয়

হাফেজ আনাস এর আগেও সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। কুরআনের প্রতি তার গভীর অনুরাগ, শুদ্ধ তেলাওয়াত ও প্রশংসনীয় ক্বিরাত ভঙ্গি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে।

গ্রামের ছেলে থেকে বিশ্বমঞ্চের তারকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামের সন্তান আনাস বিন আতিক। গ্রামের ছোট্ট পরিবেশে শুরু হয়েছিল তার হিফজযাত্রা। নিয়মিত চর্চা, শিক্ষক ও পরিবারের সহযোগিতা তাকে আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ হাফেজদের কাতারে দাঁড় করিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশি মুসলিম সমাজের মধ্যেও তৈরি করেছে ব্যাপক আশাবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *