ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর (নিউজ) – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা আগেই হাদির কার্যক্রমের সঙ্গে নজরে ছিলেন এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও লিফলেট বিতরণে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘটনা ঘটে দুপুরের পর বিজয়নগরের বক্স কুলভার্ট রোড এলাকায়, জুমার নামাজ শেষে যখন হাদি ও তার সমর্থকরা রিকশা নিয়ে সেগুনবাগিচা থেকে হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন দুইটি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা এসে পাশের রিকশার দিকে গুলি চালায়। গুলি হাদির বাম কানের কাছে লাগে এবং পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (DMCH) নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসমান হাদির সাপোর্ট টিমের নথিভুক্ত ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলাকারী দুইজন পূর্বে জনসংযোগ ও প্রচারণায় মাস্ক পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত ছিল এবং পরে তারা একই পোশাক পরে ফিরে এসে গুলির ঘটনা ঘটায় — ফলে তারা আগেই হাদির দলকে অনুসরণ করছিল বলে দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় বিএনপি, জামায়াত-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বলছি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই হামলা একটি “ঘৃণাস্পদ ষড়যন্ত্রের অংশ” এবং এটি নির্বাচনী পরিবেশকে তীব্রভাবে বিপন্ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন।
জামায়াত-এর আমির শফিকুর রহমান ও চৌধুরী মতাদর্শিক নেতারা ঘটনাটিকে “গম্ভীর ও দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করেছেন।
অপরদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের ধরতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কমিং অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতারা সবাই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।