নিবিড় চিকিৎসায় সাময়িক উন্নতি, তবে আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা
গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা আবারও সচল হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় প্রচেষ্টায় তার শরীরে সাময়িকভাবে স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাদির শরীরে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া। সর্বশেষ পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিডনি আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করেছে। তবে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানান, হাদির শরীরে একাধিক গুলি বিদ্ধ হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণের আশঙ্কা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই মুহূর্তে যেকোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে, তাই তাকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের একজন সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, “কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে আসা অবশ্যই একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে গুলিবিদ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং অঙ্গ বিকলের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে, এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে শরিফ ওসমান হাদিকে অনুসরণ করছিল এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই তাকে টার্গেট করা হয়। ঘটনার দিনও তিনি প্রচারণা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গুলিবর্ষণের ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা হাদির সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকেও একটি আবেগঘন বার্তা দেওয়া হয়েছে। হাদির একজন ঘনিষ্ঠ স্বজন জানান, “চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় তার কিডনি আবার কাজ করছে—এটা আমাদের জন্য বড় আশার খবর। কিন্তু আমরা জানি, বিপদ এখনও কাটেনি। সবাই যেন তার জন্য দোয়া করেন।”
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই অগ্রগতি জানানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন সহিংস ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তারা বলছেন, সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
সব মিলিয়ে, শরিফ ওসমান হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে আসা স্বস্তির খবর হলেও তার শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। চিকিৎসক, পরিবার ও সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘণ্টার দিকে, যা তার সুস্থতার ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।