পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামে ক্যানসারে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম শের আলী (৩৫)। তিনি বরদানগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভোলা প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্ত স্ত্রী শারমিন খাতুন (২৬) কাটেঙ্গা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। আর শারমিনের কথিত প্রেমিক অনিক (২২) একই গ্রামের মহাজন সরকারের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শের আলী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও ইউটিউবারদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর হঠাৎ করে শের আলীর মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যরা শুরুতে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধরে নেন। সে অনুযায়ী দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শের আলীর মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। অভিযোগ উঠে, চিকিৎসার নামে সংগ্রহ করা অর্থের একটি অংশ শারমিন খাতুন নিয়মিতভাবে তার কথিত প্রেমিক অনিককে দিতেন।
নিহত শের আলীর ফুপাতো ভাই এনামুল হোসেন জানান, শারমিন ও অনিকের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথন ও টাকা লেনদেনের বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য যাচাই করতে শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই অনিককে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকায় আসতে বলা হয়।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অনিক কাটেঙ্গা গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে শারমিন খাতুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শারমিন খাতুন স্বীকার করেন, গত ৩০ নভেম্বর তিনি একসঙ্গে ১০টি ঘুমের ওষুধ স্বামী শের আলীকে খাওয়ান। ওষুধ গ্রহণের পর শের আলীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। ক্যানসারের কারণে মৃত্যু হয়েছে ভেবে বিষয়টি তখন গোপনই থেকে যায়।
নিহতের মা শিরীনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা অসুস্থ ছিল ঠিকই, কিন্তু ওর বউ ইচ্ছা করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার ছেলের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ফিরে যায়—এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে পরে পুলিশ আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শারমিন খাতুন ও অনিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরওয়ার হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আটক দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পাবনা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।