হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে বিপুল নগদ—৯৩ লাখ গণনা শেষ, আরও বাকি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এলাকায় তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়ি ঘিরে আবারও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগে তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকেই উদ্ধার হওয়া অর্থ গণনার কাজ শুরু হয় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত কেবল একটি ট্রাংক থেকেই ৯৩ লাখ টাকার বেশি পাওয়া গেছে।

প্রশাসনের বরাত দিয়ে স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে রাখা একাধিক ট্রাংক, স্টিলের আলমারি ও বাক্স থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ নোট পাওয়া যায়। পুরো বাড়িটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হলে আরও নগদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলোর বেশিরভাগই ৫০০ ও ২০০ টাকার।

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের নামে অনুদান সংগ্রহ করছিলেন। সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের কোনও প্রমাণ না থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালায় এবং শুরুতেই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া টাকা কোথায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, অনুদান সংগ্রহের প্রকৃত উৎস কী, এবং এ কাজে আরও কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরের ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের পরিমাণ ও রাজনৈতিক যোগাযোগও যাচাই করতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এত বিপুল পরিমাণ নগদ কোথা থেকে এলো, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, এটি শুধু শুরু—আরো বড় কোনো অর্থচক্রের সন্ধান মিলতে পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত টাকা সিজ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্তের স্বার্থে হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।

ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র আলোচনা চলছে। বিরোধীরা বলছে, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও সঠিক নজরদারি না থাকার কারণেই এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা যায়নি।

পুরো ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন বাড়িটিকে বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *