নতুন নীতিতে ক্ষোভ—দোকান বন্ধ ঘোষণা

এনইআইআর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে—অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল দোকান বন্ধ ঘোষণা

মোবাইল ফোন খাতে নতুন নিয়ম ও নীতির জটিলতা ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ব্যবসায়ীদের দাবি পূরণে কোনও সমাধান না মিলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল দোকান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সারাদেশের মোবাইল বাজার প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—

এনইআইআর (NIR) ব্যবস্থা সংস্কার,

সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল,

মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা।

তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রস্তাবিত এনইআইআর বাস্তবায়িত হলে লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, নতুন এই নিয়মের সুবিধা ভোগ করবে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী, আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত পড়বে সাধারণ গ্রাহকের ওপর। এতে মোবাইল সেটের দাম বাড়বে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনইআইআর চালু হলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা বিদেশ থেকে আনা ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফোনও নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করতে জটিলতা তৈরি হবে। ফলে অনেক দোকানদার হঠাৎ করে ব্যবসা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। তাদের ভাষায়, “একটি নীতির কারণে দেশের লাখো পরিবার ক্ষতির মুখে পড়বে—এটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না।”

এর আগে, ৩০ নভেম্বর সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে পান্থপথ পর্যন্ত বিভিন্ন শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চান।

উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার এবং অনিবন্ধিত বা অবৈধ মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া কার্যকর হলে নেটওয়ার্কে কোনও অনিবন্ধিত, চোরাই বা অনুমোদনহীন আমদানিকৃত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না।

সরকার বলছে, নেটওয়ার্ক সুরক্ষা, অপরাধ দমন এবং বৈধ আমদানি উৎসাহিত করার জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রস্তুতি ও সমন্বয় ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে এনইআইআর চালু করলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেবে।

বর্তমানে দোকান বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারাও। মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার বন্ধ থাকায় কেউ নষ্ট ফোন মেরামত করতে পারছেন না, আবার নতুন সেট কেনার প্রয়োজন হলেও ক্রেতাদের হাতে কোনও বিকল্প নেই। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারের রাজস্বেও প্রভাব পড়বে।

এখন নজর—সরকার ও ব্যবসায়ী পক্ষ দ্রুত আলোচনায় বসে কোনও যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে পারেন কি না। নাহলে দেশের বৃহত্তম খুচরা বাজারগুলোর একটি—মোবাইল ফোন মার্কেট—আরও বড় সংকটে পড়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *