ঢাকা, বাংলাদেশ – প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ধরনের চাকরিতে যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি জানা গেছে, বিদেশে সবচেয়ে কম বেতনে চাকরি করছেন দেশের শিক্ষিত ও যোগ্য কর্মীরা। এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও কিছু ইউরোপীয় দেশে কর্মসংস্থান লাভ করেন। তবে তাদের মধ্যে চাকরির ধরন, বেতন ও সামাজিক সুরক্ষা ভিন্ন ভিন্ন। বিশেষ করে, অনেক উচ্চশিক্ষিত প্রবাসী বাংলাদেশি নীচু বেতনবৃদ্ধি, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং কঠোর শ্রমিক চুক্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রবাসী নাগরিকরা নানা ধরনের কাজ করছেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের বেশিরভাগই ন্যূনতম মজুরি বা কম বেতন পান। বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে তারা উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ বা বিশেষায়িত কাজের জন্য যোগ্য। এই পরিস্থিতি আমাদের দেশের মানবসম্পদ ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার প্রমাণ।”
প্রবাসে চাকরি করা বাংলাদেশিদের মধ্যে সেবাকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক, হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্মকর্তা, ড্রাইভার এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম বেতনে কাজ করছেন। এছাড়া অনেকের বেতন দেশে পাওয়ার মতো সুবিধাজনক নয়। এটি তাদের জীবনের মান, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থান এবং দেশের প্রতি প্রেরণা কমিয়ে দেয়।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা শুধু অর্থ উপার্জন করেন না, তারা দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখেন। তাদের রেমিট্যান্স আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাদের উপযুক্ত বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, বৈধ চুক্তি এবং সঠিক বেতন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। “আমরা সবসময় প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে কাজ করছি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রবাসে কম বেতনে কাজ করার মূল কারণ হলো বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সাথে চুক্তির শর্ত, তথ্যের অভাব এবং শ্রমিকদের আত্মপরিচয়গত ও ভাষাগত সীমাবদ্ধতা। এজন্য প্রবাসে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য এবং প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক অবদান রাখলেও তাদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রবাসী কর্মীদের জন্য অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
পরিশেষে, উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেন তারা দেশের নাম উজ্জ্বল রাখার পাশাপাশি নিজেরাও সন্মান ও ন্যায্যতা পান। এর জন্য সকল সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা সুষ্ঠু বেতন, সুরক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ পাবেন।