সরকার মানুষকে রক্ত শূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমালোচনা

করে বলেছেন, সরকার যেভাবে মেগা প্রজেক্ট করছে, যেভাবে প্রকল্প করছে, যেভাবে দুর্নীতি করছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা

বাংলাদেশের মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে।
নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার

দিকে জেলা জাতীয় পার্টি দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘বর্তমান সরকার এই প্রজেক্ট করার পর আমার মনে হয়েছে, শুধু রক্তশূন্য করছে না, আপনার লিভার,

আপনার কিডনি এগুলো কেটে নিয়ে তারা বিক্রি করছে। তার মাধ্যমে এমন একটি দেহ থাকছে আপনার, যার ওপরে গয়নাগাটি পরানো হচ্ছে।

কিন্তু কিডনি আপনার নাই, আপনার লিভার নাই, ভেতর থেকে আপনার সবকিছু বের করে নেওয়া হচ্ছে। এর কারণ হলো দেশে

কোনো গণতন্ত্র নেই, সরকার কোনো গণতন্ত্র দেয় নাই।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমালোচনা করে তিনি আরো

বলেন, ‘রূপপুর পাওয়ার প্লান্ট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এটা আমাদের মধ্যে একটা বড় ধরনের ঝুঁকি।

এটা আমাদের জন্য বিপদজনক একটা প্লান্ট। আমি মনে করি এটা আপনাদের সকলকে জানিয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য। রূপপুর

পাওয়ার প্লান্ট করা হয়েছিল প্রথমে সাড়ে ১১ হাজার মিলিয়ন ডলার এস্টিমেট দিয়ে। অর্থাৎ এক লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকায় করা হয়েছে।

  • আওয়ামী লীগের প্রয়োজন এখন ফুরিয়ে গেছে – কাদের
  • এটার ক্যাপাসিটি হলো ২৪০০ মেগাওয়াট। কিন্তু ভারতে ২০০০ মেগাওয়াট করা হয়েছে ৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে। তার চেয়ে আড়াই

    তিনগুণ বেশি দিয়ে আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট করছি, এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের সমস্যা হলো এটার যদি দুর্ঘটনা হয় তাহলে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা হবে।’

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের মতো জনবহুল দেশে অত্যন্ত বিপদজনক। যেখানে তিনটি দুর্ঘটনা হয়েছে, একটা হলো চেরনোবিল রাশিয়াতে ১৯৮৬ সালে।

    ওখানে এখন পর্যন্ত ৫০ মাইল এলাকাজুড়ে কোনো বসতি স্থাপন করতে দেওয়া হয় না। সেই ধরনের প্রজেক্ট আমরা তৈরি করেছি,

    বলছি আণবিক শক্তি। আণবিক শক্তি নয়, আণবিক বিপদ আমরা ঘরে নিয়েছি এবং বিপদজনক একটি ঝুঁকি নিয়েছি। আরো

    একটি নাকি করা হচ্ছে বরিশালে। খোদা না করুক যদি একটা দুর্ঘটনা হয়, সেটা হতেই পারে। বর্তমান ইউরোপ থেকে বিভিন্ন

    উন্নত দেশ বলছে আমরা আর বিদ্যুতের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করব না সেখানে আমরা সস্তার নাম নিয়ে এটা করছি। হচ্ছে তিনগুণ দামে, এটা সস্তা হবে না।’

    অত্যন্ত বিপদজনক আমরা সবাই, আমরা বিষাক্ত একটা প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি এবং আমাদের হাতে কোনো শক্তি নাই উল্লেখ করে

    জি এম কাদের বলেন, ‘এটার সবগুলো ইঞ্জিনিয়ার হলো রাশিয়ান, কিছু ভারতীয় কনসালটেন্ট কাজ করে। এটা অপারেট করবে রাশিয়ানরা। এখানে বাংলাদেশের কোনো কন্ট্রোল থাকবে না।

    আমি এর আগেও একার বলেছিলাম সরকার যেভাবে মেগা প্রজেক্ট করছে, যেভাবে প্রকল্প করছে, যেভাবে দুর্নীতি করছে,

    তাতে মনে হচ্ছে তারা বাংলাদেশের মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে।’

  • বিএনপি নির্বাচনে না এলে যা ভাবছে জাপা
  • জেলা জাতীয় পাটির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য এনকে আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক ওই সম্মেলনে

    প্রধান বক্তার বক্তৃতা দেন জাতীয় পাটির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুবিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন

    বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর মাসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নাজমা আক্তার এমপি, আলমগীর

  • রসায়নে ফেল করেছিলেন, সে বিষয়েই বাওয়েন্ডি পেলেন নোবেল
  • সিকদার লোটন, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল একমপি, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান

    আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব মো. বেলাল হোসেন, জেলা জাতীয় পাটির সদস্য সচিব সাজ্জাদ পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক রশিদুল ইসলাম, সিদ্দিকুল আলম প্রমুখ।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *