আদিলুরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনের কড়া বিবৃতি

মানবাধিকার সংগঠন ‌‌‘অধিকারের’ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও সংগঠনটির পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (ফিদ)।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে দেওয়া আদিলুর ও এলানের রায়ের পর তাদের ওয়েবসাইটে এই বিবৃতি প্রদান করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকার একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল মানবাধিকার সংস্থা অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানের পাশাপাশি ওএমসিটি সাধারণ পরিষদের সদস্য এবং অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সেই সঙ্গে ‘ভুয়া ছবি ও তথ্য প্রকাশ’ এবং ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার’ অভিযোগে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার আর্থিক জরিমানা করেছে। শুনানি শেষে দুই মানবাধিকার রক্ষাকারীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত লিখিত রায় জারি করার পর খান এবং এলানের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

ফিদের সভাপতি অ্যালিস মোগওয়ে বিবৃতিতে বলেন, ‌‘আমাদের বন্ধু, সহকর্মী আদিল এবং এলান দুজন অত্যন্ত সম্মানিত এবং নির্ভীক কর্মী, যাদের একমাত্র দোষ বাংলাদেশের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বছরের পর বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করা। আমরা তাদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানাই।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের আগস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিষয়ে একই বছরের মে মাসে একটি সত্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যার ফলে আদিলুর রহমান খান এবং এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানকে যথাক্রমে ৬২ এবং ২৫ দিনের জন্য নির্বিচারে আটক করা হয়েছিল। জামিনের পরও তারা ক্রমাগত বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছে। বাংলাদেশের আদালতগুলো বারবার তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। বছরের পর বছর ধরে খান এবং এলান তাদের মানবাধিকার কাজের জন্য সরকার কর্তৃক অপমান, সমালোচিত এবং পৈশাচিকতার শিকার হয়েছে। শুধু তাই নয় ২০২২ সালের জুন মাসে অধিকারের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল।

রায়ের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সংস্থার মহাসচিব জেরাল্ড স্ট্যাবেরক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা হত্যার জন্য নিন্দা করে তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। আদিল এবং এলান আমার দেখা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন যারা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অন্যায়ভাবে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু অপরাধীরা এখনো মুক্ত। একজন আইনজীবী হিসেবে, এটা দেখে আমি ব্যথিত এই কারণে যে, এই বিচারব্যবস্থা তার মিশন ভুলে গেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *